
PSG vs Aston Villa 2-1: নাটকীয় ফাইনালে ২-১ গোলে জিতে ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখল পিএসজি
ইউরোপীয় ফুটবলের নতুন মৌসুমের উদ্বোধনী রাতে রেড বুল অ্যারেনায় ফুটবল প্রেমীরা উপভোগ করলেন এক শ্বাসরুদ্ধকর রোমাঞ্চকর ফাইনাল ম্যাচ। উয়েফা সুপার কাপের হাইভোল্টেজ এই মেগা ফাইনালে PSG vs Aston Villa 2-1 সমীকরণে নাটকীয় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ফরাসি পরাশক্তি প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি)।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের ধার ফুটবলপ্রেমীদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। প্রথমার্ধে জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড খভিচা কাভারাটস্খেলিয়ার দুর্দান্ত গোলে পিএসজি এগিয়ে গেলেও প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে অ্যাস্টন ভিলার ১৭ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি ব্রায়ান মাদজোর অসাধারণ ভলিতে ম্যাচে সমতা ফিরে আসে। তবে দ্বিতীয় অর্ধে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR)-এর রোলারকোস্টার ড্রামার পর দেজিরে দুয়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের মহামূল্যবান জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লুইস এনরিকের শিষ্যরা।
Manchester United বনাম Leeds: পেনাল্টিতে ৫-৪ গোলে জয় পেল Manchester United
প্রথম অর্ধের রোমাঞ্চ ও কাভারাটস্খেলিয়ার ক্লাসিক স্ট্রাইক
ম্যাচের শুরু থেকেই চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী পিএসজি বল দখলের লড়াইয়ে আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করে। মাঝমাঠে ভিটিনহা, জোয়াও নেভেস এবং ওয়ারেন জাইর-এমেরির চমৎকার বোঝাপড়ায় ফরাসি ক্লাবটি একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে।
ম্যাচের ১৯তম মিনিটে আসে প্রথম সাফল্য। বাঁ প্রান্ত থেকে কাট-ইন করে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ডান পায়ের দূরপাল্লার এক বাঁকানো শটে গোলরক্ষক মার্কো বিজোটকে পরাস্ত করেন জর্জিয়ান উইঙ্গার খভিচা কাভারাটস্খেলিয়া। বলটি পোস্টের কোণ ঘেঁষে জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পিএসজির সমর্থকরা। উয়েফা সুপার কাপের ইতিহাসে প্রথম জর্জিয়ান ফুটবলার হিসেবে গোল করার গৌরবও অর্জন করেন কাভারাটস্খেলিয়া।
গোল হজম করার পর অবশ্য উনাই এমেরির অ্যাস্টন ভিলা গুটিয়ে যায়নি। উয়েফা ইউরোপা লিগ চ্যাম্পিয়নরা নিজেদের চিরাচরিত কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবলে ফিরতে বেশি সময় নেয়নি। জন ম্যাকগিন ও ইমানুয়েল বুয়েন্দিয়ার নেতৃত্বে ভিলার আক্রমণভাগ বারবার পরীক্ষা নিচ্ছিল পিএসজি রক্ষণভাগের।
ব্রায়ান মাদজোর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ও প্রথমার্ধে সমতা
পিএসজি রক্ষণভাগ যখন ১-০ ব্যবধান ধরে রেখে বিরতিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল, ঠিক তখনই ৪৫তম মিনিটে ঘটে রূপকথার মতো এক ঘটনা। অ্যাস্টন ভিলা অধিনায়ক জন ম্যাকগিনের বাঁ প্রান্ত থেকে বাড়ানো নিখুঁত ক্রস পিএসজির বক্সে পৌঁছালে তরুণ ফরোয়ার্ড ব্রায়ান মাদজো এক দুর্দান্ত হাফ-ভলিতে বল জালে পাঠান।
১৭ বছর বয়সী এই তরুণ স্ট্রাইকারের চোখধাঁধানো ফিনিশিংয়ে স্তব্ধ হয়ে যায় পিএসজির রক্ষণভাগ। ১-১ গোলের সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল, যা ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
ভিএআর (VAR) ড্রামা ও দেজিরে দুয়ের সিদ্ধান্তমূলক গোল
দ্বিতীয় অর্ধের শুরু থেকেই ম্যাচের তীব্রতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ৫১তম মিনিটে অ্যাস্টন ভিলা এগিয়ে যাওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে জন ম্যাকগিনের একটি দুর্দান্ত শট চমৎকার দক্ষতায় এক হাতে রুখে দেন পিএসজির রাশিয়ান গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভ।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৬১তম মিনিটে। অ্যাস্টন ভিলার হাই-লাইন রক্ষণভাগ ভেদ করে থ্রু পাস পান দেজিরে দুয়ে। চমৎকার নিপুণতায় বিজোটকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান দুয়ে, তবে লাইন্সম্যান সঙ্গে সঙ্গে অফসাইডের পতাকা তোলেন। পিএসজি শিবির যখন হতাশায় ডুবছিল, ঠিক তখনই হস্তক্ষেপ করে ভিএআর। দীর্ঘ পরীক্ষার পর দেখা যায়, অ্যাস্টন ভিলার ডিফেন্ডার ম্যাটি ক্যাশ অনসাইড পজিশনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, ফলে দুয়ে অফসাইডের ফাঁদ কাটাতে সক্ষম হন।
রেফারি গোলের বাঁশি বাজাতেই বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠে পিএসজি। স্কোরবোর্ডে লেখা হয় PSG vs Aston Villa 2-1।
ম্যাচের পরিসংখ্যান (Match Stats):
- স্কোর: পিএসজি ২ - ১ অ্যাস্টন ভিলা
- গোলদাতা (পিএসজি): খভিচা কাভারাটস্খেলিয়া (১৯'), দেজিরে দুয়ে (৬১')
- গোলদাতা (অ্যাস্টন ভিলা): ব্রায়ান মাদজো (৪৫')
- ভেন্যু: রেড বুল অ্যারেনা, সালজবার্গ

PSG বনাম Aston Villa: ৪৫ মিনিটে ব্রায়ান মাদজোর গোলে সমতায় Aston Villa
শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা ও এনরিকের স্ট্র্যাটেজিক জয়
পিএসজিকে পুনরায় লিড নিতে দেখে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে অ্যাস্টন ভিলা। উনাই এমেরি শেষ ২০ মিনিটে ট্যামি আব্রাহাম ও রস বার্কলিকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ান। অন্যদিকে, লুইস এনরিক সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে উসমান দেম্বেলে, ফাবিয়ান রুইজ ও লুকাস হার্নান্দেজকে নামিয়ে রক্ষণভাগ শক্ত করেন।
শেষ বাঁশি বাজার আগে পর্যন্ত উভয় দলের মধ্যে তীব্র শারীরিক ও কৌশলগত লড়াই চলে। কিন্তু পিএসজির অধিনায়ক মারকুইনহোস ও উইলিয়াম পাচোর ইস্পাতকঠিন রক্ষণকে আর ভাঙতে পারেনি প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি। ফলে ২-১ গোলের কষ্টার্জিত অথচ প্রাপ্য জয়ে উয়েফা সুপার কাপের ট্রফি ঘরে তোলে ফরাসি ক্লাবটি।
কেন এই ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে?
১. লুইস এনরিকের ট্রফি মাস্টারক্লাস: ইউরোপীয় ফুটবলে লুইস এনরিকের অধীনে পিএসজি তাদের বিজয়রথ অব্যাহত রেখেছে, যা নতুন মৌসুমে তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেবে।
২. অ্যাস্টন ভিলার লড়াকু মানসিকতা: বহু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হাতছাড়া হওয়া সত্ত্বেও উনাই এমেরির দল যেভাবে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে টেক্কা দিয়েছে, তা প্রিমিয়ার লিগের দলটির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতার বড় প্রমাণ।
৩. ভিএআর বিতর্ক ও রোমাঞ্চ: ফাইনালে অফসাইডের ভিএআর সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়, যা দর্শকদের চরম উত্তেজনা উপহার দেয়।
পরিশেষে বলা যায়, PSG vs Aston Villa 2-1 ফাইনাল ম্যাচটি চলতি মৌসুমের অন্যতম সেরা ও নাটকীয় এক ফুটবল দ্বৈরথ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।