BCB ম্যাচ ফি বাড়াল, আসছে ছয় দলের নতুন টুর্নামেন্ট

BCB ম্যাচ ফি বৃদ্ধি ও ছয় দলের নতুন ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা
ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়ানোর পাশাপাশি ছয় দলের নতুন প্রতিযোগিতা কাঠামোর পরিকল্পনা করেছে BCB।

BCB ম্যাচ ফি বাড়াল, আসছে ছয় দলের নতুন টুর্নামেন্ট

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)। BCB ম্যাচ ফি বাড়ানোর পাশাপাশি তিন ফরম্যাটকে একটি কাঠামোর মধ্যে এনে ছয় দলের নতুন ঘরোয়া প্রতিযোগিতা চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। নতুন কাঠামোর প্রথম আয়োজন হিসেবে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এ আয়োজনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত BCB পরিচালনা পর্ষদের ভার্চুয়াল সভায় সংশোধিত ম্যাচ ফি অনুমোদন করা হয়। একই সভায় তিন ফরম্যাটের ঘরোয়া ক্রিকেটকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনাও সামনে আসে।

অভিষেক শর্মার ১০৮ রান রেকর্ড, আফগানিস্তানকে হারাল ভারত

ঘরোয়া ক্রিকেটে বাড়ল ম্যাচ ফি

নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুরুষ ক্রিকেটারদের চার দিনের ম্যাচে প্রতি ম্যাচের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একদিনের ক্রিকেটে প্রতি ম্যাচে পাওয়া যাবে ১ লাখ টাকা, আর টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ ফি হবে ৮০ হাজার টাকা

এ ছাড়া NCL Second XI-এর ম্যাচ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। এর ফলে জাতীয় দলের বাইরে থাকা এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলা ক্রিকেটারদের জন্য ম্যাচভিত্তিক আয়ের সুযোগ নতুন মাত্রা পেতে পারে।

নারী ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। তিন দিনের ম্যাচে ৪০ হাজার টাকা, একদিনের ম্যাচে ৩০ হাজার টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

BCB ম্যাচ ফি তিন ফরম্যাটে ছয় দলের নতুন কাঠামো

ম্যাচ ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি BCB তিন ফরম্যাটকে এক কাঠামোর অধীনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় First Class four-day, List A One-Day এবং List A T20 ক্রিকেট নিয়ে ছয় দলের একটি প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় দলগুলোর মালিকানার অধিকার বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত ও স্বনামধন্য corporate এবং financial প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই মালিকানা ব্যবস্থার মেয়াদ তিন বছর রাখার কথা বলা হয়েছে।

BCB ম্যাচ ফি প্রথমে আসতে পারে টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা

নতুন কাঠামোর অধীনে প্রথম আয়োজন হিসেবে টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা করার পরিকল্পনা করেছে BCB। এর সম্ভাব্য সময় ডিসেম্বর ২০২৬। অর্থাৎ বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন ধরনের ফ্র্যাঞ্চাইজি-ভিত্তিক প্রতিযোগিতা দেখা যেতে পারে।

এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন ফরম্যাটকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করছে বোর্ড। একই সঙ্গে corporate ও financial প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যও রয়েছে।

FFWS SEA 2026 Fall Grand Finals আজ, শিরোপার লড়াই

ক্রিকেটারদের জন্য কী পরিবর্তন আসছে?

ম্যাচ ফি বৃদ্ধির ফলে নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা ক্রিকেটারদের ম্যাচভিত্তিক আয় বাড়বে। বিশেষ করে চার দিনের ক্রিকেটে প্রতি ম্যাচে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং একদিনের ক্রিকেটে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হওয়ায় আগের তুলনায় ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আর্থিক কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

তবে ম্যাচ ফি থেকে প্রকৃত আয় নির্ভর করবে একজন ক্রিকেটার কতগুলো ম্যাচে সুযোগ পাচ্ছেন তার ওপর। অর্থাৎ শুধু ফি বাড়ানো নয়, পর্যাপ্ত ম্যাচ এবং নিয়মিত খেলার সুযোগও ক্রিকেটারদের আয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য playing opportunity-এর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উঠে এসেছে।

BCB ম্যাচ ফি বৃদ্ধি ও ছয় দলের নতুন ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা
ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়ানোর পাশাপাশি ছয় দলের নতুন প্রতিযোগিতা কাঠামোর পরিকল্পনা করেছে BCB।

BCB-এর আরও একটি সিদ্ধান্ত

২০ সেপ্টেম্বরের সভায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দৈনিক ভাতাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে দৈনিক ভাতা ছিল ১০ হাজার টাকা, সেটি বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি ও শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে ঘিরে কিছু উন্নয়ন পরিকল্পনাও অনুমোদনের খবর এসেছে।

উপসংহার

BCB ম্যাচ ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামোয় নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়ানোর পাশাপাশি তিন ফরম্যাটে ছয় দলের নতুন প্রতিযোগিতা চালুর পরিকল্পনা ঘরোয়া ক্রিকেটকে নতুন কাঠামোয় নিয়ে যেতে পারে। ডিসেম্বর ২০২৬-এ প্রস্তাবিত টি-টোয়েন্টি আয়োজনটি এই পরিকল্পনার প্রথম বড় ধাপ হতে পারে।

তবে নতুন কাঠামো বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে নিয়মিত ম্যাচ আয়োজন, ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের সুযোগ এবং প্রস্তাবিত corporate ownership কাঠামো কীভাবে বাস্তবায়িত হয় তার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *