রাফিনহার হ্যাটট্রিকে সেভিয়াকে হারিয়ে বার্সেলোনার দুর্দান্ত জয়

“রাফিনহার হ্যাটট্রিক, সেভিয়াকে হারিয়ে বার্সার জয়!”
“রাফিনহার হ্যাটট্রিক, সেভিয়াকে হারিয়ে বার্সার জয়!”

রাফিনহার হ্যাটট্রিকে সেভিয়াকে হারিয়ে বার্সেলোনার দুর্দান্ত জয়

স্প্যানিশ লা লিগায় আবারও জয়ের ধারায় বার্সেলোনা। কঠিন এক অ্যাওয়ে ম্যাচে সেভিয়াকে ৩–১ গোলে হারিয়ে মৌসুমের দুর্দান্ত শুরু অব্যাহত রেখেছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল। ম্যাচের মূল নায়ক ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনহা। তাঁর দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকেই এক গোলে পিছিয়ে পড়া বার্সেলোনা শেষ পর্যন্ত তুলে নেয় গুরুত্বপূর্ণ জয়।

রামন সানচেজ-পিজুয়ান স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই সেভিয়া বার্সেলোনার ওপর চাপ তৈরি করে। নিজেদের মাঠে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা স্বাগতিকরা ১৯ মিনিটের দিকে এগিয়ে যায়। ফেলিক্স কোরেইয়ার ক্রস থেকে ইউসুফ ফোফানা হেডে বল জালে পাঠিয়ে সেভিয়াকে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

তবে গোল হজম করার পর বার্সেলোনার প্রতিক্রিয়া ছিল দ্রুত। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ম্যাচে সমতা ফেরান রাফিনহা। আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেনের পাস থেকে সুযোগ তৈরি করে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ১–১ সমতায়।

ইন্টার মিলান বনাম রোমা: সিরি এ-তে ২-২ গোলের সমতায় থ্রিলার ড্র

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নেয় বার্সেলোনা। আক্রমণে আরও ধার বাড়ায় তারা। লামিনে ইয়ামালও বেশ কয়েকবার সেভিয়ার রক্ষণে সমস্যা তৈরি করেন। শেষ পর্যন্ত ৫২ মিনিটে ইয়ামালের তৈরি সুযোগ থেকেই আবারও গোল করেন রাফিনহা। তাঁর হেডে বল জালে জড়ালে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা।

এরপর সেভিয়া ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও বার্সেলোনার আক্রমণ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। ৬৯ মিনিটে আসে রাফিনহার হ্যাটট্রিকের মুহূর্ত। লামিনে ইয়ামালের পাস থেকে দ্রুত সামনে এগিয়ে গিয়ে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে নিখুঁতভাবে বল জালে পাঠান তিনি। তাতেই পূর্ণ হয় তাঁর হ্যাটট্রিক এবং বার্সেলোনার জয়ও কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।

এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে রাফিনহা লা লিগায় চলতি মৌসুমে নিজের গোলসংখ্যা ১২-তে নিয়ে গেছেন মাত্র সাতটি লিগ ম্যাচে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি ছিল টানা দ্বিতীয় ম্যাচে তাঁর হ্যাটট্রিক। বার্সেলোনার হয়ে চলতি মৌসুমে তাঁর দুর্দান্ত গোল-ফর্ম দলটির নিখুঁত শুরুর অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে।

রাফিনহার পাশাপাশি লামিনে ইয়ামালও ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বার্সেলোনার দ্বিতীয় ও তৃতীয় গোলের সময় তাঁর অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ এই ফরোয়ার্ডের সৃষ্টিশীলতা এবং রাফিনহার ফিনিশিং মিলিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে সেভিয়ার রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলতে সক্ষম হয় বার্সেলোনা।

ম্যাচটি বার্সেলোনার জন্য সহজ ছিল না। প্রথমার্ধে সেভিয়া বেশ ভালো প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং শুরুতে গোলও আদায় করে নেয়। তবে গোল হজমের পর বার্সেলোনার দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো এবং দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়।

এই জয়ের ফলে লা লিগায় বার্সেলোনার জয়যাত্রা অব্যাহত থাকল। সাত ম্যাচে সাত জয় নিয়ে তারা ২১ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচের আগে বার্সেলোনা সাময়িকভাবে ছয় পয়েন্টের ব্যবধান তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে সেভিয়ার বিপক্ষে বার্সেলোনার এই জয় আবারও দেখিয়ে দিল, ম্যাচে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হলেও দলটি ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা রাখে। আর সেই প্রত্যাবর্তনের কেন্দ্রে ছিলেন রাফিনহা। এক গোলে পিছিয়ে পড়া বার্সেলোনাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে জয় এনে দিয়েছেন তিনি।

রাফিনহার দুর্দান্ত ফর্ম, ইয়ামালের সৃষ্টিশীলতা এবং ফ্লিকের দলের ধারাবাহিকতা—সব মিলিয়ে লা লিগায় বার্সেলোনার মৌসুমের শুরুটা এখন পর্যন্ত বেশ জমজমাট। সামনে এই ছন্দ কতটা ধরে রাখতে পারে দলটি, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *