
FIFA World Cup controversy বিশ্বকাপ নিয়ে ফিফার বিতর্কিত উদ্যোগ বাতিল: প্রবল বাধার মুখে পিছু হটলেন ইনফান্তিনো
অনলাইন ডেস্ক
FIFA World Cupবিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফিফা (FIFA) শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র বিরোধিতা ও বয়কটের হুমকির মুখে নিজেদের একটি বড় বাণিজ্যিক পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। মেগা টুর্নামেন্ট বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বা শেয়ার বেসরকারি লগ্নিকারীদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাব নিয়ে যে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, তার জের ধরেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিকল্পনা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে এই সিদ্ধান্তকে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর সাম্প্রতিক মেয়াদের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক পিছু হঠন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান এবং সদস্য দেশগুলোর ঐক্য বজায় রাখতেই ফিফা বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কী ছিল ফিফার বাণিজ্যিক পরিকল্পনা?
সম্প্রতি ফিফার পক্ষ থেকে ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (FIFA Forward Enterprise) নামে একটি বাণিজ্যিক সাবসিডিয়ারি বা প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। যার লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও সম্প্রচার স্বত্ব পরিচালনা করা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ২০ বিলিয়ন ডলারের এই নতুন সংস্থায় প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখান থেকে সংগৃহীত প্রায় ৪.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ বৈশ্বিক ফুটবলের উন্নয়ন এবং ফিফার ২১১টি সদস্য রাষ্ট্রের মাঝে অর্থ সহায়তায় ব্যয় করার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল।
তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ফুটবল সংশ্লিষ্টদের বড় একটি অংশ এটিকে ফুটবলের বাণিজ্যিকীকরণ এবং খেলাটির সত্ত্বা বিক্রি করে দেওয়ার শামিল বলে সংজ্ঞায়িত করেন।
ইউরোপ ও এশিয়ার অভিন্ন বিরোধিতা
ফিফার এই উদ্যোগের কথা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয় বিভিন্ন মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ফুটবলের শাসক সংস্থা উয়েফা (UEFA) কঠোর ভাষায় এর প্রতিবাদ জানায়। উয়েফা স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দেয় যে, ফুটবল বিশ্বকাপের স্বত্ব কোনো বাণিজ্যিক পণ্যের মতো বিক্রি হতে পারে না। যদি ফিফা এই নীতি থেকে সরে না আসে, তবে ইউরোপের দলগুলো ফিফার যেকোনো টুর্নামেন্ট বয়কট করবে।
উয়েফার পাশাপাশি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (AFC) এবং উত্তর আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CONCACAF)-ও এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে। তাদের মতে, বহুজাতিক কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হস্তক্ষেপের ফলে ফুটবলের সার্বজনীনতা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ঝুঁকিতে পড়তে পারত।
Spain and Argentina Set for a Finalissima Rematch — This Time in Qatar This November
ফিফা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পদত্যাগ
শুধু বাইরের বিরোধীতাই নয়, ফিফার অভ্যন্তরীণ প্রশাসনেও বিষয়টি নিয়ে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিতর্কিত এই পরিকল্পনাটির প্রতিবাদে ফিফা সভাপতির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কোর্দেইরো নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
একইসঙ্গে সংস্থার চিফ অপারেটিং অফিসার কেভিন লামুর প্রকাশ্যে এই উদ্যোগের সমালোচনা করেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এমন প্রকাশ্য মতপার্থক্য ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে চরম চাপের মুখে ফেলে দেয়।
অবশেষে নতিস্বীকার ও ইনফান্তিনোর বক্তব্য
সব দিক থেকে ঘনিয়ে আসা সংকট ও অসন্তোষের মাত্রা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেয় ফিফা কর্তৃপক্ষ।
এক বিবৃতিতে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন,
“সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ মনোযোগের সাথে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এই প্রস্তাবনাটি ফুটবল পরিমণ্ডলে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভাজনের জন্ম দিয়েছে। বিভাজন তৈরি করা আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়, আমাদের লক্ষ্য ফুটবলকে একসূত্রে বাঁধা। ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থ এবং সংহতি ধরে রাখতে এই পরিকল্পনাটি আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।”
এই ঘোষণার পর বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ অঙ্গনগুলোতে সাময়িকভাবে হলেও শান্তির আবহ ফিরে এসেছে। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, কোটি ডলারের বাণিজ্যের চেয়ে খেলাটির ঐতিহ্য ও আন্তঃসংস্থার ঐক্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।