জুভেন্টাস বনাম ইন্টার মিলান: দিমারকো ও দিউফের গোলে ইন্টারের ২-১ ব্যবধানের জয়

জুভেন্টাস বনাম ইন্টার মিলান

জুভেন্টাস বনাম ইন্টার মিলান: দিমারকো ও দিউফের লক্ষ্যভেদে জুভেন্টাসকে হারাল ইন্টার মিলান

অস্ট্রেলিয়ার পার্থের অপটাস স্টেডিয়ামে আয়োজিত হাইভোল্টেজ প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী জুভেন্টাসকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছে ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলান। ৫০ হাজারেরও বেশি ফুটবলপ্রেমী দর্শকের সামনে অনুষ্ঠিত এই হাই-প্রোফাইল ম্যাচে পুরো সময় জুড়েই ছিল আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের উত্তেজনা। ইন্টারের হয়ে প্রথম অর্ধে গোল করেন তারকা উইং-ব্যাক ফেদেরিকো দিমারকো এবং দ্বিতীয় অর্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তরুণ মিডফিল্ডার আন্ডি দিউফ। ম্যাচের শেষ দিকে ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও জুভেন্টাসের হয়ে এক গোল শোধ করলেও পরাজয় এড়াতে পারেনি ‘ওল্ড লেডি’রা।

ইন্টার মায়ামি বনাম মোন্তেররেই: লিগস কাপের রোমাঞ্চকর ম্যাচে কাল ভোরে নামছেন মেসি

জুভেন্টাস বনাম ইন্টার মিলান শুরুর আক্রমণ কাটিয়ে ইন্টারের নিয়ন্ত্রণে ম্যাচ

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই পরাশক্তি একে অপরকে মেপে নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রথম ১০ মিনিটে জুভেন্টাস বল দখলে কিছুটা আধিপত্য বিস্তার করলেও ইন্টার মিলানের রক্ষণভাগ অত্যন্ত সুসংগঠিত থেকে প্রতিপক্ষের সব প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেয়। জুভেন্টাস ফরোয়ার্ডদের বাড়ানো বলগুলো বিপদমুক্ত করেন ইন্টারের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডাররা।

ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে ইন্টার মিলান। মাঝমাঠে নিকোলো বারেল্লা ও হাকান চালহানোগলুর নিখুঁত পাসিংয়ে জুভেন্টাস রক্ষণে চাপ বাড়ায় তারা। এর সুফল পেতেও বেশি সময় লাগেনি।

ফেদেরিকো দিমারকোর দর্শনীয় ওপেনিং গোল

ম্যাচের ২০তম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় ইন্টার মিলান। বা প্রান্ত ধরে ওঠানামা করা উইং-ব্যাক ফেদেরিকো দিমারকো বাঁকানো আক্রমণে জুভেন্টাস বক্সে অনুপ্রবেশ করেন। তরুণ ফরোয়ার্ড আঞ্জে-ইয়োয়ান বোনির চমৎকার পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের নিপুণ শটে জুভেন্টাস গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন দিমারকো।

এই অসাধারণ গোলের মধ্য দিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইন্টার। প্রথম অর্ধে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে জুভেন্টাস। তবে ইন্টার মিলানের গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের কঠোর নজরদারির কারণে বিরতির আগে স্কোরবোর্ডে আর কোনো পরিবর্তন আসেনি।

দ্বিতীয় অর্ধে আন্ডি দিউফের নিপুণ ফিনিশিং ও ইন্টারের শক্ত অবস্থান

বিরতির পর দল পুনর্গঠন করে মাঠে নামে দুই দলই। জুভেন্টাস আক্রমণভাগে নতুন কৌশল প্রয়োগ করতে শুরু করলে ম্যাচটি আরও আক্রমণাত্মক রূপ নেয়। তবে চাপ সামলে উঠে আবার খেলায় প্রভাব বিস্তার করে ইন্টার।

৬২তম মিনিটে আসে ম্যাচের দ্বিতীয় গোল। বদলি হিসেবে মাঠে আসা ফরাসি মিডফিল্ডার আন্ডি দিউফ বক্সের ডান প্রান্ত থেকে রাইট-ফুটেড নিখুঁত কার্লিং শটে বল জালে জড়ান। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। দিউফের এই দর্শনীয় গোলেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে ইন্টার মিলান।

চেলসি বনাম এসি মিলান: জাও পেদ্রোর যোগ করা সময়ের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেলসি

জুভেন্টাস বনাম ইন্টার মিলান ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওয়ের গোল ও জুভেন্টাসের শেষ মুহূর্তের লড়াই

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে আক্রমণের ধার বাড়ায় জুভেন্টাস। পর্তুগিজ গতিময় উইঙ্গার ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও ডান দিক দিয়ে ক্রমাগত বিপদ তৈরি করতে থাকেন। ৮৫তম মিনিটে তাঁর সেই প্রচেষ্টা সাফল্য পায়।

ইন্টার বক্সে জটলার ভেতর থেকে দ্রুত বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চমৎকার শটে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন কনসেইসাও। ফলে ম্যাচের স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-১। ব্যবধান কমানোর পর ম্যাচের বাকি সময়টিতে সমতায় ফিরতে চরম চাপ সৃষ্টি করে জুভেন্টাস। অন্তিম মুহূর্তে বেশ কয়েকটি বিপজ্জনক কর্নার পেলেও ইন্টারের দৃঢ় ডিফেন্স ব্যবধান ধরে রাখতে সক্ষম হয় এবং শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ইন্টার মিলান।

দুই দলের সেরা একাদশ ও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ

এই প্রীতি ম্যাচের মধ্য দিয়ে দুই কোচই নতুন মৌসুমের মূল স্কোয়াডের সমন্বয় ও তরুণ খেলোয়াড়দের পারফর্ম করার সুযোগ পরখ করে নিয়েছেন।

  • ইন্টার মিলান: ক্রিস্টিয়ান কিভুর অধীনে ইন্টারের তরুণ ও অভিজ্ঞ প্লেয়ারদের মেলবন্ধন ছিল লক্ষণীয়। বিশেষ করে ফেদেরিকো দিমারকোর ধারাবাহিকতা ও বদলি নেমে আন্ডি দিউফের ফিনিশিং কোচকে স্বস্তি দেবে।
  • জুভেন্টাস: লুসিয়ানো স্পাল্লেত্তির জুভেন্টাস ম্যাচটি না জিতলেও ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওয়ের ব্যক্তিগত দক্ষতা ও শেষ অর্ধে দলের জয়ের মানসিকতা ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *